বিস্তারিত

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কিংবদন্তি কৌতুক অভিনেতা দিলদার। পর্দায় যার উপস্থিতি বাড়িয়ে দিত দর্শকের উচ্ছ্বাস, প্রেক্ষাগৃহে বইতো হাসির ঝরনাধারা। কমেডিয়ান হলেও আর পাঁচজন নায়কের মতোই ছিল তার জনপ্রিয়তা।
বাবা-মা নাম রেখেছিলেন দেলোয়ার হোসেন। সিনেমায় এসে হয়ে যান দিলদার। তিনি শুধু অভিনেতা ছিলেন না, ছিলেন প্রাণবন্ত একজন মানুষ। শুটিং সেটে থাকতেন প্রাণখোলা হাসিতে, উৎসাহ দিতেন সহশিল্পীদের।
কৌতুক অভিনেতা হিসেবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী অনন্য প্রতিভার দিলদার নায়ক হয়েও চমকে দিয়েছিলেন। ‘আব্দুল্লাহ’ সিনেমায় শুধু তাকে দেখতেই হলে ছুটে এসেছিলেন দর্শক। এছাড়াও মালেক আফসারীর ‘লাল বাদশা’ সিনেমায় দিলদারের গাওয়া ‘শুধু ডিম দিয়ে পরিচয়’ গানটিও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
দিলদারের প্রতি দর্শকের ভালোবাসা তো ছিলোই, পাশাপাশি ‘তুমি শুধু আমার’ ছবির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এই পুরস্কার শুধু তার প্রতিভার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হলেও আসল সম্মান তিনি পেয়েছেন জনমানুষের হৃদয় থেকেই।
সিনেমায় ব্যস্ত থাকলেও পরিবারের প্রতি সমান দায়িত্বশীল ছিলেন দিলদার। কখনোই রাত ১০টার পর শুটিং সেটে থাকতেন না। ফিরে যেতেন বাড়িতে। পরিবারের অর্থনৈতিক দিকটাও মাথায় রাখতেন তিনি।
২০০৩ সালের আজকের দিনেই দর্শকের মুখের হাসি কেড়ে নিয়ে পরপারে পাড়ি জমান দিলদার। তার মৃত্যুর পর ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক কৌতুক অভিনেতাই এসেছেন, কিন্তু কেউই দিলদারের অভাব পূরণ করতে পারেননি। দিলদার হয়ে উঠেছিলেন ঢালিউডের অবিচ্ছেদ্য অংশ; যার অনুপস্থিতি বার বার বুঝিয়ে দিয়েছে তার শূন্যতা। বাংলা সিনেপ্রেমীদের কাছে তাই দিলদার আজও এক স্মরণীয় নাম।
এই লেখায় আপনার প্রতিক্রিয়া
একটি প্রতিক্রিয়া বেছে নিন; সরাতে আবার চাপুন।

