বিস্তারিত
বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, প্রবীণ অভিনেতা ও নৃত্য পরিচালক ইলিয়াস জাভেদ (Ilias Javed) আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থতার পর আজ ২১ জানুয়ারি ২০২৬ সকালে তিনি ৮২ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন—দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তাঁর এই দুঃখজনক প্রয়াণের খবর শিল্পী মহলে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর শোক সৃষ্টি করেছে।
🎬 শুরুর দিনগুলো: নৃত্য থেকে অভিনয়
ইলিয়াস জাভেদ ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের এক জনপ্রিয় নায়ক এবং বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী। তিনি প্রথম চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন নৃত্য পরিচালক হিসাবে। পরে তাঁর প্রতিভা তাঁকে অভিনয়ে নিয়ে আসে, যেখানে তিনি দর্শকদের মন জয় করেন।
• আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র পরিচালনা কাজ হয়েছিল উর্দু ভাষার সিনেমা মালান-এ, যার পরিচালনা করেছিলেন কায়সার পাশা।
• অভিনয়ে তাঁর অভিষেক হয়েছিল ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’-তে।
⭐ চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার ও জনপ্রিয়তা
ইলিয়াস জাভেদ বাংলা চলচ্চিত্রে আধিপত্য কায়েম করেন বিশেষ করে ১৯৭০ থেকে ১৯৯০ দশকে। তিনি প্রায় ২০০টির মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে দাপুটে হিরো চরিত্র, নাচ, নাটকীয় দৃশ্য—সবকিছুই দর্শকদের মনোমুগ্ধকর করেছে।
তার কিছু জনপ্রিয় ও স্মরণীয় চলচ্চিত্র:
নিশান
মালকা বানু
সাহেব বিবি গোলাম
কাজল রেখা
অনেক দিন আগে
রাজকুমারী চন্দ্রবানু
রূপের রানী
আলাদ্দিন আলিবাবা ও সিনডাবাদ
এবং আরও অনেক।
শুধু অভিনয় নয়, তিনি নৃত্য পরিচালক হিসেবেও দর্শকদের মন জয় করেছিলেন, যা তাঁকে আলাদা করে তুলেছিল চলচ্চিত্র জগতে।
❤️ ব্যক্তিগত জীবন
ইলিয়াস জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ার (বর্তমান পাকিস্তান) জন্মগ্রহণ করেন। পরে তিনি দলে দলে পাঞ্জাব হয়ে ঢাকায় স্থায়ী হন। সেখানে তিনি বাংলা চলচ্চিত্র বিশ্বে নিজের জন্য একটি অনন্য জায়গা তৈরি করেন।
তিনি ১৯৮৪ সালে খ্যাতনামা অভিনেত্রী ডলি চৌধুরী-কে বিয়ে করেন এবং তাঁদের দাম্পত্য জীবনে বহু সুখ-দুঃখের স্মৃতি গড়ে ওঠে।
🩺 অসুস্থতা ও শেষ দিনগুলো
ইলিয়াস জাভেদ দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁর ক্যান্সারের চিকিৎসা চলছিল দীর্ঘ সময় ধরে, এবং পাশাপাশি হৃদরোগের মতো অন্যান্য সমস্যাও ছিল। তাঁর শারীরিক অবস্থা হঠাৎ অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত তিনি আজ সকালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
সর্বশেষ তাঁকে উত্তরার একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছিল, এবং পরে তাঁর প্রয়াণের খবর পরিবার এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি সহ শোবিজ অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ নিশ্চিত করেন।
🕯️ শেষকৃত্য ও শ্রদ্ধা
ইলিয়াস জাভেদের মরদেহ উত্তরা সেক্টর ১২ এর সমাধিক্ষেতে দাফন করা হয়েছে। তার স্মৃতিচারণ করতে ভিড় করেন চলচ্চিত্র জগতের বহু সহকর্মী, ভক্ত ও সাধারণ মানুষ। তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন গড়ে (BFDC) প্রাঙ্গণে, যেখানে শিল্পীরা শ্রদ্ধা জানান।
শোবিজ অঙ্গনে তার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন একাধিক শিল্পী, এবং তাঁকে স্মরণ করে বিভিন্ন স্তরের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে।
📌 সমাপ্তি
ইলিয়াস জাভেদ বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অমল স্মৃতি। তাঁর অভিনয়, নৃত্য ও সাফল্য দেশের দর্শকদের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। আজ তাঁর প্রয়াণ শুধু চলচ্চিত্র জগতের জন্যই নয়, সমগ্র সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
এই লেখায় আপনার প্রতিক্রিয়া
একটি প্রতিক্রিয়া বেছে নিন; সরাতে আবার চাপুন।

