বিস্তারিত
কুবের আজও পদ্মার ঢেউয়ে ভাসে, মজিদ প্রশ্ন তোলে বিশ্বাস আর ক্ষমতার, দুখাই ছুঁয়ে যায় মানুষের হৃদয়। অমর এই চরিত্রগুলোর প্রাণপুরুষ রাইসুল ইসলাম আসাদ। বাংলা অভিনয়ের এক বিশাল বটগাছ; যার ছায়ায় বেড়ে উঠেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। আজ এই কিংবদন্তি অভিনেতার ৭৩তম জন্মদিন।
১৯৫৩ সালের ১৫ জুলাই ঢাকার পুরানা পল্টনে তার জন্ম। তরুণ বয়সেই জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হন তিনি। ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতার জন্য অস্ত্র হাতে যোগ দেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। যে তরুণ যুদ্ধক্ষেত্রে দেশের জন্য লড়েছিলেন, স্বাধীনতার পর সেই মানুষটিই সংস্কৃতির মঞ্চে হয়ে ওঠেন শিল্পের যোদ্ধা।
১৯৭২ সালে বেতার, মঞ্চ ও টেলিভিশনের মাধ্যমে শুরু হয় তার অভিনয়যাত্রা। ১৯৭৩ সালে খান আতাউর রহমান পরিচালিত 'আবার তোরা মানুষ হ' চলচ্চিত্র দিয়ে অভিষেক হয় বড় পর্দায়। এরপর একের পর এক চরিত্রে নিজেকে ভেঙেছেন, গড়েছেন। কখনো গ্রামের সাধারণ মানুষ, কখনো সংগ্রামী এক নায়ক, কখনো ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তার অভিনয় যেন নদীর স্রোতের মতো- স্বাভাবিক, গভীর আর নিরন্তর।
ঘুড্ডি, লাল সবুজের পালা, সুরুজ মিঞা, পদ্মা নদীর মাঝি, দুখাই, লালসালু- প্রতিটি কাজেই তিনি রেখে গেছেন নিজের স্বাক্ষর। ক্যামেরার সামনে কখনো অভিনয় করেন না, বেঁচে থাকেন চরিত্র হয়ে। আর সেখানেই তিনি আলাদা।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসাধারণ অভিনয়ের স্বীকৃতি এসেছে বারবার। চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হয়েছেন। ঘানি ও মৃত্তিকা মায়া চলচ্চিত্রের জন্য পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতার সম্মান। ৪৫তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে অর্জন করেন আজীবন সম্মাননা। ২০২১ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে সম্মানিত করেন দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার 'একুশে পদক'-এ।
১৯৭৯ সালে তাহিরা দিল আফরোজের সঙ্গে সংসারজীবন শুরু করেন রাইসুল ইসলাম আসাদ। তাদের একমাত্র কন্যা রুবায়না জামান। জীবনের ৭৩ বসন্তে থাকলেও শিল্পের প্রতি তার ভালোবাসা আজও তরুণ।
রাইসুল ইসলাম আসাদ শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি অভিনয় ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। মুক্তিযোদ্ধার সাহস, শিল্পীর নিষ্ঠা আর মানুষের প্রতি ভালোবাসা- অনন্য এই মেলবন্ধনেই গড়ে উঠেছে কিংবদন্তির পথচলা। সময় বদলাবে, বদলাবে প্রজন্ম; তবে পদ্মার ঢেউয়ে কুবের, বিশ্বাসের প্রশ্নে মজিদ আর মানুষের হৃদয়ে দুখাই হয়ে রাইসুল ইসলাম আসাদ বেঁচে থাকবেন বারবার।
এই লেখায় আপনার প্রতিক্রিয়া
একটি প্রতিক্রিয়া বেছে নিন; সরাতে আবার চাপুন।
