তুফান-এর গল্প ১৯৯০–এর দশকের বাংলাদেশের অপরাধ জগৎ ও গ্যাংস্টার রাজনীতির মধ্যে দাঁড়িয়ে নির্মিত। গল্পে দেখা যায় কীভাবে একজন সাধারণ ছেলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমান্বয়ে মাফিয়া-ডন ও অপরাধ সাম্রাজ্ঞীতে রূপান্তরিত হয়।
📌 গল্পের ধাপ
- শান্তো — সাধারণ থেকে অভিনয়ের পথে:
১৯৯৪-এ শান্তো নামে একটি যুবক চলচ্চিত্রে দুর্বল ভূমিকা পাওয়ার জন্য চেষ্টা করে, কিন্তু তাকে অপমান করা হয়। - অনাকাঙ্ক্ষিত মোড় ও টু্ফানের হাজিরা:
এক পর্যায়ে শান্তোকে টু্ফান-এর লোকেরা ধরে নিয়ে যায়। ধরাওয়ায় বের হয়ে জানতে পারে - অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে তার চেহারা ও নাম টু্ফান নামে গণ্যমান্য মাফিয়া-ডনের সাথে মিল থাকে, যিনি সমাজে ভয়ের রাজত্ব চালান। - টু্ফানের পূর্ব ইতিহাস:
টু্ফান বা গালিব বিন ঘানির হারানো শৈশব, পিতার হত্যাকাণ্ড, প্রতিশোধ, মাফিয়া বিনিয়োগ ও অপরাধ জগতে ওঠা — সবই পর্দায় ধীরে-ধীরে তুলে ধরা হয়। সে বশির নামের গ্যাংস্টারের অধীনে বড় হয় এবং পরিণামে সে নিজেই দুনিয়ার শক্তিশালী অপরাধী হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়ায়। - রাজনীতি ও অপরাধের জটিল সম্পর্ক:
টু্ফান রাজনৈতিক দলের সহায়তায় ক্ষমতায় ওঠে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অপরাধমূলক কাণ্ডের মাধ্যমে তার ক্ষমতা আরো শক্তিশালী করে। - শেষ অধ্যায় ও রহস্য:
শেষের দিকে সরকার ও পুলিশ টু্ফানকে ধাওয়া করে, তিনি পালাতে গিয়ে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়ান। পোস্ট-ক্রেডিট сценে দেখা যায় হয়তো তিনি বাঁচছেন — যা পরের কিস্তির আভাস দেয়।
শুটিং
- প্রায় ৪১ দিন ধরে ভারত (বিশেষত রামোজি ফিল্ম সিটি, হায়দ্রাবাদ) -তে শুটিং করা হয়, যেখানে ১৯৯০-এর দশকের বাংলাদেশকে রিলাইফতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল।
- শাকিব খানসহ পুরো টিম সর্বোচ্চ সময় ভারতে শুটিং-এর কাজ করেছেন এবং পরবর্তীকালে ঢাকায় ফিরে পোস্ট-প্রোডাকশন কাজ প্রদক্ষিণ করা হয়েছে।
🎬 নির্মাণ বৈশিষ্ট্য
- চলচ্চিত্রে বিশাল সেট, ৯০ এর দশকের গাড়ি, পোশাক, রাস্তা ও স্থাপত্য দৃশ্যগুলো স্বতন্ত্রভাবে তৈরি করা হয়।
- বাংলাদেশের অবস্থান ও চরিত্রের বাস্তবায়ন করার জন্য আন্তর্জাতিক দলের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ হয়েছে।
তুফান — একটি শক্তিশালী অ্যাকশন-ক্রাইম থ্রিলার, যেখানে শাকিব খান একজন সাধারণ যুবক থেকে ভয়ঙ্কর মাফিয়া ডনে রূপান্তরিত হওয়ার গল্প শো করা হয়। সিনেমাটির সেট-ডিজাইন, ব্যাকগ্রাউন্ড, ৯০য়ের দশকের সমাজ, রাজনীতি ও অপরাধের গভীর সম্পর্ক প্রদর্শন করা হয়েছে। এ ছবিটি বাংলা সিনেমায় একটি উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রমী অ্যাকশন ফ্লিক হিসাবে বিবেচিত হয়েছে।