সম্পূর্ণ মতামত
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে মুখ ও মুখোশ শুধু একটি সিনেমা নয়—এটি একটি শুরু, একটি সাহসী পদক্ষেপ। আর এই শুরুর পেছনে যে মানুষটির নাম সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়, তিনি হলেন আব্দুল জব্বার খান।
১৯৫৬ সালে নির্মিত মুখ ও মুখোশ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে নির্মিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক বাংলা চলচ্চিত্র। সেই সময় কোনো শক্ত ইন্ডাস্ট্রি ছিল না, ছিল না পর্যাপ্ত প্রযুক্তি বা অভিজ্ঞতা—তবুও আব্দুল জব্বার খান নিজের দৃঢ়তা আর স্বপ্ন দিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন।
এই সিনেমায় তিনি শুধু পরিচালক বা অভিনেতাই নন, বরং একজন স্বপ্নদ্রষ্টা নির্মাতা। তার অভিনয় ছিল সরল, মাটির কাছাকাছি এবং সময়ের প্রেক্ষাপটে একেবারেই বাস্তবধর্মী। চরিত্রের ভেতরের দ্বন্দ্ব, সামাজিক মূল্যবোধ আর মানবিক দিকগুলো তিনি খুব সহজভাবে পর্দায় তুলে ধরেছেন।
আব্দুল জব্বার খানের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো—তিনি প্রমাণ করেছিলেন, বাংলা ভাষায় সিনেমা বানানো সম্ভব, এবং সেই সিনেমা দর্শক গ্রহণ করবে। মুখ ও মুখোশ-এ তার কাজ আজকের চোখে হয়তো টেকনিক্যালি সাধারণ মনে হতে পারে, কিন্তু তখনকার সময়ে এটি ছিল একেবারেই বিপ্লবী প্রচেষ্টা।
এই সিনেমার মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নির্মাতা ও শিল্পীদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছেন। আজ যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি আমরা দেখি, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন আব্দুল জব্বার খান—আর সেই ভিত্তির নাম মুখ ও মুখোশ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মুখ ও মুখোশ সিনেমায় আব্দুল জব্বার খানের অবদান শুধু একটি চরিত্র বা একটি সিনেমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এই লেখায় আপনার প্রতিক্রিয়া
একটি প্রতিক্রিয়া বেছে নিন; সরাতে আবার চাপুন।



